রোহিঙ্গার ভারে জর্জরিত বাংলাদেশ: প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে

 এশিয়ার  ভবিষ্যৎবিষয়ক ২৭তম আন্তর্জাতিক নিক্কেই সম্মেলনের  এক ভিডিও বার্তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক  গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তাহার গুরুত্বপূণ  ভাষণে স্থান পেয়েছে রোহিঙ্গাদের  ইস্যু।বর্তমানে  বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায়  ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের  স্বদেশ প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের গ্রহণযোগ্য মীমাংসার জন্য  অবদান রাখতে ও  সাহায্য করার জন্য  জাপান ও ওইসিডির দেশগুলোর প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী    আহ্বান জানিয়েছেন।









মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় দেয়া হয়েছে । সকল  বাস্তুচ্যুতকে অবশ্যই মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরত পাঠাতে হবে।অন্যদিকে  ভারত থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ভারতে  ব্যাককরার জন্য   বিজিবিকে নির্দেশ দিয়েছে  বলে জানিয়েছেন মাননীয়  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান। মন্ত্রী মহাদয় আরো  বলেছেন, ভারত সরকার যেসকল  রোহিঙ্গাদের  আশ্রয় দিয়েছে, তারা সেখানেই থাকবে। এই  বিষয়ে  ভারত সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের  ইস্যুতে যেসকল  কথা বলেছেন, তার সবই গুরুত্বপূর্ণ ।  সরকার  রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে বিচলিত ও  এ থেকে উত্তরণের জন্য সচেষ্ট,তা  তাদের কথায় দ্বারা  প্রমাণ মেলে। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশে  প্রায় পাঁচ বছর শেষ  হতে চলছে। কিন্তু  এই দীর্ঘ সময় পর্যন্ত  এই  সংকটের কোনো সুরাহা মিলেনি । তবে , মিয়ানমার বাংলাদেশের  অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে ইচ্ছুক  নয়। গত প্রায় পাঁচ বছরে মিয়ানমারের  ট্র্যাক রেকর্ড তা-ই বলছে।

আন্তর্জাতিক  আদালতে  মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনিতো  অভিযোগ আমলে নিয়ে অন্তর্বর্তী রায় দিলে তা  মিয়ানমার তাতে গুরুত্ব দেয়নি । মূলত  মিয়ানমার এক চরম স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্রে তারা পরিণত হয়েছে, তারা  আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ধার ধারছে না। , মিয়ানমার জেনারেলগণ  দেশের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বদা  ব্যস্ত, রোহিঙ্গা সংকট  তাদের অগ্রাধিকারে নেই। এই কারণে চীনের মধ্যস্থতায় যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়টিওএখন  স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ মতো  অবস্থায় প্রশ্ন জাগে , তাহলে  রোহিঙ্গাদের স্বদেশে পাঠানো যাবে কি ? প্রশ্ন এজন্য উঠছে,যে  রোহিঙ্গা ইস্যুটি একাধিকবার জাতিসংঘে আলোচিত হয়েছে, তবে  এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে পাঠানো সম্ভব হয় নাই । আমরাএখন  মনে করি, শত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের  ইস্যুটি পৌনঃপুনিকভাবে আন্তর্জাতিক ফোরামে ইস্যুটি  তুলে ধরা উচিত। বাংলাদেশ  রোহিঙ্গার ভারে জর্জরিত। এতে শুধু অর্থনৈতিক নয়, পরিবেশ-প্রতিবেশের উপর  রোহিঙ্গারা মারাত্মক ভাবে নেতিবাচক প্রভাবে ফেলেছে । অন্য দিকে প্রতিনিয়তই নতুন করে রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা।

তবে  রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো না গেলে সংকট যেআরো  তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে , তা বলা বাহুল্য। তাই আমাদের উচিত , প্রথমত, আর একজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে গ্রহণ করা যাবেনা । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী  ভারত থেকে বাংলাদেশে  প্রবেশরত রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করা উচিত । রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো জোরদার করা উচিত । রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আলোচনায় এক মাত্র রাশিয়া আগ্রহ দেখিয়েছে।

রাশিয়ার  এই আগ্রহ কাজে লাগানো উচিত। কিন্তু  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়  কার্যকরে  ভূমিকা রাখতে পারে এক মাত্র চীন। অতএব  বিশেষ করে চীনের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতাগুরুত্ব ভাবে  অব্যাহত রাখতে হবে। দক্ষিণও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোরমধ্যে  জোট আসিয়ানকেও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা উচিত। সবশেষে  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন রাখা উচিত , রোহিঙ্গা ইস্যুটি যে সংকট তৈরি হয়েছে , তা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে  যেন আন্তর্জাতিক মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ